সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 123 বার পঠিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। একইদিন বিকেলে ৪৯ সদস্যের নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন।
আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে বলে জানা গেছে।
অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠাবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপি পাবে ৩৬টি, জামায়াত পাবে ১২টি, এনসিপি পাবে একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবেন একটি আসন।
সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ফল ঘোষণা বাকি থাকা দুটি আসনেও বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী সাতজনই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা বিএনপি নেতা। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে বিএনপির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নারী নেত্রীদের উপস্থিতি বাড়ছে।
অনেক নারী নেত্রী এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। তাদের অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার আশা করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইসি সূত্র জানায়, সংসদ সচিবালয় থেকে তালিকা পেলেই তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। পরিকল্পনা রয়েছে ঈদের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা এবং তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে অবদান রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাবেক ছাত্রনেত্রীদেরও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। যেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি, সেসব এলাকার নারী নেত্রীদেরও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
তবে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে দলের সবাই সন্তুষ্ট নন। অনেক ত্যাগী নেতা মূল্যায়ন পাননি। এমনকি কেউ কেউ এমপি মনোনয়নও পাননি। সংরক্ষিত নারী আসনেও রাজপথে সক্রিয় নন—এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রথমে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরে সেখান থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে এবং সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত হবে না।
মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে যেসব নেত্রী :
সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে বিএনপির বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—বেগম সেলিমা রহমান, বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, শিরিন সুলতানা, হাসিনা আহমেদ, রুমানা মাহমুদ, শাম্মী আক্তার, নাজমুন নাহার বেবী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিনা বেগম মিনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, নিলুফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা ও রেহেনা আক্তার রানু।
এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন নিপুণ রায় চৌধুরী, হেলেন জেরিন খান, সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সৈয়দা আদিবা হোসেন, অপর্না রায়, ফাহসিনা হক লিরা, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, হাসনাহেনা হিরা, অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা, রুমা আক্তার, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, শাহানা আক্তার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, রোকেয়া সুলতানা তামান্না, আমেনা বেগম ও জেবা আমিন খান।
আলোচনায় আরো রয়েছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন, কনক চাঁপা, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানজিদা ইসলাম তুলি, শাহিনুর নার্গিস, শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, শাহিনুর সাগর, সাবেক এমপি ইয়াসমিন আরা হক, চেমন আরা বেগম, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন ও ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।
Posted ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah